ভারতে অভ্যন্তরীণভাবে এক মাসের সর্বোচ্চ দামে স্বর্ণ বেচাকেনা হচ্ছে। ফলে দেশটিতে মূল্যবান ধাতুটির চাহিদা এখনো নিম্নমুখী আছে। খবর রয়টার্স।
দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকায় ভারতের ব্যবসায়ীরা চলতি সপ্তাহে স্বর্ণ বেচাকেনায় অভ্যন্তরীণ দাম থেকে আউন্সপ্রতি ১৭ ডলার পর্যন্ত ছাড় দিয়েছেন। যাতে ৬ শতাংশ আমদানি শুল্ক ও ৩ শতাংশ বিক্রি শুল্ক অন্তর্ভুক্ত ছিল। গত সপ্তাহে দেশটিতে আউন্সপ্রতি ১৪ ডলার পর্যন্ত ছাড় দিয়েছিলেন ব্যবসায়ীরা।
আহমেদাবাদভিত্তিক এক গহনা ব্যবসায়ী বলেন, ‘স্বর্ণের দাম বেশি হওয়ায় গ্রাহক ক্রয় বন্ধ রেখেছেন। তাছাড়া হিন্দু ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, ‘‘অশুভ খারমাস’’ এখনো চলছে। তাই চাহিদা কমেছে।’
ভারতে শুক্রবার অভ্যন্তরীণভাবে প্রতি ১০ গ্রাম স্বর্ণ ৭৮ হাজার ৩৬০ রুপিতে (৯১২ ডলার ৪১ সেন্টে) পৌঁছেছে, গত মাসে যা ছিল ৭৫ হাজার ৪৫৯ রুপি।
মুম্বাইভিত্তিক এক বুলিয়ন ডিলার বলেছেন, ‘ভারতে বেশির ভাগ স্বর্ণের চাহিদা আমদানির মাধ্যমে পূরণ করা হয়। অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম ও ভারতীয় রুপির বিনিময় হার ওঠানামার কারণে গহনা ব্যবসায়ীদের বাণিজ্যিক কার্যক্রম কমেছে।’
উল্লেখ্য, চলতি সপ্তাহে রুপির বিনিময় হার রেকর্ড নিম্নে নেমেছে। রুপির বিনিময় হার কমে গেলে আমদানি খরচ বেড়ে যায়। ফলে যেকোনো মূল্যের দাম আরো ঊর্ধ্বমুখী হয়।
বিশ্বে স্বর্ণের শীর্ষ ব্যবহারকারী দেশ চীন। চলতি সপ্তাহে দেশটির ডিলাররা স্পট দামের ওপর প্রতি আউন্সে ২ ডলার পর্যন্ত ছাড় দিয়েছেন। এছাড়া এ সময় তারা মূল্যবান ধাতুটি বেচাকেনায় মূল্য সংযোজন করেছেন ৯ ডলার পর্যন্ত। গত সপ্তাহে ছাড় ও সংযোজিত মূল্যের পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ৪ ডলার ৫০ সেন্ট ও ১০ ডলার।
রস নরম্যান নামের এক বিশ্লেষক বলেন, ‘সামনেই আসছে “দ্য ইয়ার অব দ্য স্ন্যাক।’’ এটি একটি শুভ ও স্বর্ণ ক্রয়ের জন্য উপযুক্ত সময় বলে মনে করেন দেশটির স্থানীয়রা।’
প্রসঙ্গত, দ্য ইয়ার অব দ্য স্ন্যাক বলতে চীনা রাশিচক্রের একটি বছরকে নির্দেশ করে, যেখানে সাপকে চীনা ক্যালেন্ডারে একটি বিশেষ প্রতীক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। চীনা লুনার ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, প্রতি বছর একটি নির্দিষ্ট প্রাণীকে প্রতিনিধি হিসেবে নির্ধারণ করা হয়। সাপ তাদের মধ্যে একটি।
এদিকে সিঙ্গাপুরের ডিলাররা চলতি সপ্তাহে প্রতি আউন্স স্বর্ণে ২ ডলার ৫০ সেন্ট পর্যন্ত মূল্য সংযোজন করেছেন। হংকংয়ে এ সময় ডিসকাউন্টের পরিমাণ ছিল আউন্সপ্রতি ৩০ সেন্ট। এ সময় সংযোজিত মূল্যের পরিমাণ ছিল ২ ডলার।
জাপানে চলতি সপ্তাহে প্রতি আউন্স স্বর্ণে ৫ সেন্ট ছাড় দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এ সময় তারা মূল্য সংযোজন করেছেন প্রতি আউন্সে ৫ সেন্ট।